ICT Events

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯ম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন

আজ ২২ জুন ২০১৫ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’। এ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো ৯ম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধনী ঘোষণা, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা এবং দোয়া ও মুনাজাত। প্রবল বৃষ্টির কারণে অনুষ্ঠানে কিছুটা বিঘœ ঘটে। দুপুর ১২টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সম্মানিত সদস্য জনাব একরামুল করিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের ও সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এ কে এম সাঈদুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীদের মধে ক্যাপ ও টি-শার্ট বিতরণ করা হয়েছে; ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়েছে; ভবনসমূহে ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে; তাই সর্বত্রই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন আবদুল হামিদ বাপ্পি ও কপালিকা দর্শন, কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সোহরাব হোসেন, কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব তারেক মো: রাশেদ উদ্দিন, শিক্ষকবৃন্দের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো: জাহাঙ্গীর সরকার। রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো: মমিনুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল হতে অদ্যাবধি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

DSC_1103

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এ কে এম সাঈদুল হক চৌধুরী তাঁর সময়কালে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উল্লেখ করেন এবং বর্তমান উপাচার্য মহোদয়কে সহযোগিতার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুরোধ করেন। প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠাকালীন কিছু স্মৃতি তুলে ধরেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, সকলের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে।

প্রধান অতিথি নোয়াখালী-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব একরামুল করিম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে সকলকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে আমাদের স্লোগান হলো- শুভ শুভ শুভ দিন-শুভ হোক নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন। সন্ত্রাস, ইভটিজিংমুক্ত ও ছাত্ররাজনীতিমুক্ত একটি ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করতে তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নোয়াখালীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর উত্তোরত্তর অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। বর্তমান উপাচার্য মহোদয়কে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমরা সকলে আমাদের অবস্থান হতে তাঁকে সহযোগিতা করে যাবো। তাহলেই আমরা এখানে একটি কাঙ্খিত মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান মাননীয় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাঁদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করায় তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়টি হাটি হাটি পা পা করে আজকের অবস্থানে এসেছে; আগামীতে আমরা সবাই নিজেদের মেধা, যোগ্যতা, সততা ও আন্তরিকতা দ্বারা এ প্রতিষ্ঠানকে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করবো। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পড়াশোনায় মনযোগী হয়ে নিজেদেরকে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান।

পরিশেষে বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: আবুল হোসেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। পরিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতি ও জনপদের মাঝে যে বিপুল ও অমিত সম্ভাবনা লুক্কায়িত রয়েছে কেবলমাত্র আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল সৃষ্টির মাধ্যমেই তার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন সম্ভবপর। বস্তুত এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বাংলাদেশ সরকারের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০১ সালে নোয়াখালীতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ২০০১ এর ১৫ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা “নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১” জারি হয়। এই আইন কার্যকর হয় ২০০৩ এর ২৫ আগস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৬ এর ২২ জুন।

বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি অনুষদের অধীনে ১৪টি বিভাগ রয়েছে। বিভাগসমূ হলো, ১. কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ২. ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স, ৩. ফার্মেসী, ৪. এপ্লায়েড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ৫. মাইক্রোবায়োলজী, ৬. এপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্স, ৭. ইংরেজী, ৮. ফুড টেকনোলজি এন্ড নিউট্রিশন সায়েন্স, ৯. এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড হ্যাজার্ড স্টাডিজ, ১০. বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন, ১১. ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি, ১২. ইকনোমিক্স এন্ড পোভার্টি স্টাডিজ, ১৩. বায়োটেকনোজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ৪. কোস্টাল এগ্রিকালচার। প্রথম চারটি বিভাগে মাস্টার্স কোর্সও চালু হয়েছে। স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩,৫০০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১০৫ জন এবং কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন প্রায় ২০০জন।

গত ২ জুন ২০১৫ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার উদঘাটন ও দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন মাননীয় উপাচার্য।

মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী
সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), জনসংযোগ শাখা, রেজিস্ট্রার দপ্তর

বিতরণ:
১. বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, ০২. হল প্রভোস্টবৃন্দ, ০৩. প্রক্টর, ০৪. পরিচালক, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ, ০৫. অফিস প্রধানগণ, ০৬. শাখা প্রধানগণ, রেজিস্ট্রার দপ্তর, ০৭. শাখা কর্মকর্তা, উপাচার্য মহোদয়ের দপ্তর, ০৮. জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা, নোয়াখালী, ০৯. দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নোয়াখালীর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ১০. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নোটিশ বোর্ড।

Contact Us

Department of Information & Communication Engineering(ICE)

Noakhali Science & Technology University

Sonapur-3814, Noakhali, Bangladesh

Tel: +609 549 2133

Fax: +609 549 2144

Email: head@icenstu.edu.bd

Our Location

NSTU Campus Map

Coordinate:
22.794437,91.100707